রামিসা হ'ত্যা মামলার রায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড

 রামিসা হ'ত্যা মামলার রায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড


রামিসা হত্যা মামলার রায়ে ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে আদালত। অল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।


এখন প্রত্যাশা, রায় বাস্তবায়নেও যেন অযথা বিলম্ব না হয়। একইসঙ্গে আছিয়া মামলাসহ অন্যান্য আলোচিত মামলার রায়ও দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন।


আমাদের শিশুরা নিরাপদে বেড়ে উঠুক। আর কোনো নিষ্ঠুরতার শিকার না হোক কোনো রামিসা, কোনো আছিয়া।রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর আদালতকক্ষে আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায় স্বপ্নাকে, আর নির্বাক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকেন সোহেল রানা।রোববার (৭ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।রায়ের পর আদালতের দৃশ্যে দেখা যায়, কাঠগড়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল মুখে মাস্ক পরে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অপরদিকে আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তার পাশে বসেই অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে।



তবে রায় ঘোষণার পর বিপরীত দৃশ্যও দেখা গেছে আদালত কক্ষ ও চত্বরে। উপস্থিত দর্শনার্থী, জনতা রায় ঘোষণার পরপরই উচ্ছাস প্রকাশ করে হাত তালি দেন।মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। একই দিন ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করে পুলিশ।পরবর্তীতে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ছিলেন প্রধান আসামি এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়।



তদন্তে ডিএনএ, ফরেনসিক আলামত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যেখানে সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।



মামলার বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে বলেন, পুরো মামলায় একটি সুস্পষ্ট ‘চেইন অব ফ্যাক্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা অপরাধে আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে।



অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ দাবি করেন, মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ অনুপস্থিত ছিল। তার মতে, এসব ঘাটতির কারণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আসামিদের খালাসের আবেদন জানান। বিকল্প হিসেবে সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা প্রার্থনা করেন তিনি।



মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি মামলার ক্ষেত্রে দ্রুততম বিচারিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

সোহেল বলেন,আমি একা রামিসাকে হ`ত্যা করিনি, আমার সাথে ছিলো রামিসার নিজের আপন...

সেক্সের সময় স্তনের ভূমিকা: ইসলাম কী বলে? লেখাটি প্রত্যেকের পড়া উচিত

একজন স্ত্রী তিনটি জায়গায় উ*ল*ঙ্গ হলেও গুনাহ নেই — ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি