স্বামী-স্ত্রী একে অপরের লজ্জাস্থানের চুল কাটতে পারে কি? — ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের লজ্জাস্থানের চুল কাটতে পারে কি? — ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বৈধ সম্পর্ক। এ কারণে সাধারণত যে বিষয়গুলো অন্য কারো জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ, স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে তার অনেকগুলোই বৈধ। লজ্জাস্থানের চুল পরিষ্কার করাও এমন একটি বিষয়, যা ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ও ফিতরতের অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামে লজ্জাস্থানের চুল পরিষ্কার করার গুরুত্ব
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “ফিতরতের পাঁচটি বিষয় হলো: খতনা করা, লজ্জাস্থানের চুল পরিষ্কার করা, নখ কাটা, বগলের চুল উপড়ে ফেলা এবং গোঁফ ছোট করা।”
— Sahih al-Bukhari ও Sahih Muslim
এ থেকে বোঝা যায়, লজ্জাস্থানের চুল পরিষ্কার রাখা ইসলামী পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের চুল কাটতে পারবে কি?
অধিকাংশ ফকীহ (ইসলামী আইনবিদ) এর মতে, স্বামী-স্ত্রীর জন্য একে অপরের সমগ্র শরীর দেখা বৈধ, তাই প্রয়োজন হলে একজন অন্যজনের লজ্জাস্থানের চুল পরিষ্কার বা কাটতে সাহায্য করতে পারে।
এর পক্ষে দলিল হিসেবে আলেমগণ উল্লেখ করেন যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরস্পরের শরীর দেখার ব্যাপারে সাধারণ অনুমতি রয়েছে।
আলেমদের মতামত
অনেক সমসাময়িক আলেম ও ফকীহ বলেছেন:
স্বামী স্ত্রীর লজ্জাস্থানের চুল কাটতে সাহায্য করতে পারে।
স্ত্রীও স্বামীর লজ্জাস্থানের চুল কাটতে সাহায্য করতে পারে।
এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো গুনাহ নেই।
বিশেষ করে অসুস্থতা, অক্ষমতা বা অন্য কোনো প্রয়োজন থাকলে এটি আরও গ্রহণযোগ্য।
কোনো অপছন্দনীয়তা (মাকরূহ) আছে কি?
কিছু আলেম ব্যক্তিগত লজ্জাবোধ ও উত্তম আদবের কারণে বলেছেন যে, সম্ভব হলে প্রত্যেকে নিজের কাজ নিজে করাই উত্তম। তবে এটি হারাম বা নিষিদ্ধ নয়; বরং আদবের আলোচনার বিষয়।
অর্থাৎ:
✅ বৈধ (জায়েজ)
✅ প্রয়োজনে একে অপরকে সাহায্য করা যাবে
✅ গুনাহ নেই
⚠️ তবে সম্ভব হলে নিজে করা উত্তম বলে কিছু আলেম মত প্রকাশ করেছেন
৪০ দিনের বেশি বিলম্ব করা যাবে না
Anas ibn Malik (রাঃ) বর্ণনা করেন:
> আমাদের জন্য নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা, বগলের চুল তুলে ফেলা এবং লজ্জাস্থানের চুল পরিষ্কার করার ব্যাপারে চল্লিশ দিনের বেশি সময় অতিক্রম না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
— Sahih Muslim
সুতরাং লজ্জাস্থানের চুল এমনভাবে রেখে দেওয়া উচিত নয় যাতে ৪০ দিনের বেশি সময় পার হয়ে যায়।
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের লজ্জাস্থানের চুল কাটতে বা পরিষ্কার করতে পারে। ইসলামী শরীয়তে এটি জায়েজ এবং এতে কোনো গুনাহ নেই। তবে ব্যক্তিগত লজ্জাবোধ ও উত্তম আদবের দিক বিবেচনায় কেউ চাইলে নিজে নিজে এই কাজ করতে পারে।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment