লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন। কিভাবে জামিনে বের হয় এরা!
লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন। কিভাবে জামিনে বের হয় এরা!
“রামিসার হত্যাকারীর জামিন মঞ্জুর”
(কাল্পনিক, তবে সময় নিয়ে পড়ে দেখতে পারেন। অনেক কিছু জানবেন ও বুঝবেন)
অধ্যায়–১
“শহর তখন রামিসাময়”
শহরের প্রতিটি মানুষের মুখে একটাই নাম—
রামিসা।
স্কুলড্রেস পরা ছোট্ট মেয়েটির হাসিমাখা ছবিটি তখন
ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিভিশন, সংবাদপত্র—সবখানে।
কেউ লিখছে—
“এই দেশের বিচার চাই।”
কেউ লিখছে—
“ফাঁসি ছাড়া কিছু মানি না।”
কেউ আবার শিশুটির ছবির পাশে কালো ব্যানার লাগিয়ে লিখছে—
“রামিসার আত্মা বিচার চাইছে।”
টকশোতে উপস্থাপক উত্তেজিত কণ্ঠে বলছে—
“দেশবাসী জানতে চায়—কবে হবে বিচার?”
মানুষের চোখে তখন আদালতের রায়ও যেন আগেই লেখা হয়ে গেছে।
পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করলো।
প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার “স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী” রেকর্ড করা হয়েছে।
সংবাদ পাঠিকা গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
“আসামি ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করেছে।”
এরপর যেন পুরো দেশ নিশ্চিত হয়ে গেল—
“এবার আর বাঁচার উপায় নেই।”
কিন্তু আদালতের ফাইল অন্য ভাষায় কথা বলে।
ফেসবুকের বিচার আর আদালতের বিচার এক জিনিস নয়।
আইন আবেগ বোঝে না।
আইন শুধু প্রমাণ বোঝে।
আর সেই জায়গাটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
ঘটনার তিন মাস পর।
এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় পুরানা পল্টনের এক চেম্বারে বসে আছেন
ব্যারিস্টার নয়,
টকশো সেলিব্রেটি নয়,
বরং বহু বছরের কোর্টরুম অভিজ্ঞতায় ক্লান্ত এক আইনজীবী।
অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল সুমন।
টেবিলের উপর ছড়িয়ে আছে:
FIR,
Case diary,
Remand order,
164 confession,
Postmortem report,
এবং কিছু সংবাদপত্র।
ঠিক তখন দরজায় নক হলো।
পিয়ন ধীরে এসে বলল—
“স্যার… আসামি সোহেল রানার এক আত্মীয় আসছে।”
আইনজীবী চশমা নামিয়ে তাকালেন।
লোকটি ভেতরে ঢুকলো।
চোখেমুখে ভয়, ক্লান্তি আর অস্থিরতা।
সে ধীরে বলল—
“স্যার… সবাই বলতেছে শেষ।
কিন্তু আইনে… কোনো রাস্তা নাই?”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর আইনজীবী ধীরে ফাইল খুললেন।
১৬৪ ধারার জবানবন্দীর পাতায় চোখ রেখে শান্ত কণ্ঠে বললেন—
“রাস্তা সবসময় থাকে।
প্রশ্ন হলো—তদন্তে কত ফাঁক আছে।”
লোকটি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।
বাইরে তখনও মানুষ স্লোগান দিচ্ছে—
“ফাঁসি চাই! ফাঁসি চাই!”
কিন্তু চেম্বারের ভেতরে শুরু হয়ে গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আলোচনা।
আইনের আলোচনা।
আর কখনো কখনো—
আইনের অন্ধকার দিকেরও আলোচনা।
অধ্যায়–২
“জামিনের নকশা”
পুরানা পল্টনের পুরোনো ভবনের তৃতীয় তলায় ছোট্ট চেম্বারটি তখন প্রায় নিস্তব্ধ।
বাইরে মাগরিবের আজান হচ্ছে।
টেবিলের উপর ফাইলের স্তূপ।
লাল কভারের উপর বড় অক্ষরে লেখা—
“রাষ্ট্র বনাম সোহেল রানা”
লোকটি কাঁপা কণ্ঠে বলল—
“স্যার… সবাই তো বলতেছে ও শেষ।
টিভিতে দেখাইছে ও নাকি সব স্বীকার করছে।”
অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল সুমন শান্ত গলায় বললেন—
“টিভির বিচার আর আদালতের বিচার এক না।”
লোকটি চুপ।
আইনজীবী ফাইল খুললেন।
১৬৪ ধারার জবানবন্দীর পাতায় চোখ বুলিয়ে মৃদু হাসলেন।
“Confession মানেই শেষ না”
“দেখেন… মানুষ একটা জিনিস বোঝে না।
১৬৪ ধারার confession হইলো evidence—কিন্তু final truth না।”
লোকটি দ্রুত সামনে ঝুঁকল।
“মানে?”
“মানে… আদালত দেখবে— confession voluntary কিনা, চাপ দিয়ে নেওয়া হয়েছে কিনা, পরে retract করছে কিনা, আর সবচেয়ে বড় কথা— independent corroboration আছে কিনা।”
লোকটি হতবাক।
“কিন্তু সবাই তো বলতেছে ফাঁসি হবেই!”
আইনজীবী এবার সরাসরি তাকালেন।
“মানুষ আবেগে বিচার করে।
আদালত technical ground এ বিচার করে।”
“কোথায় ফাঁক?”
তিনি একে একে কাগজ বের করতে লাগলেন।
১. প্রত্যক্ষদর্শী নাই
“কেউ সরাসরি হত্যা দেখছে?”
—“না।”
২. Recovery দুর্বল
“হত্যার অস্ত্র recover করছে?”
—“শুনছি পাইছে।”
“Forensic matching?”
—“জানি না।”
আইনজীবী মাথা নেড়ে বললেন—
“এই ‘জানি না’ শব্দটাই আদালতে অনেক সময় জামিন হয়ে যায়।”
৩. Confession retract করলে?
লোকটি ফিসফিস করে বলল—
“স্যার… যদি বলে পুলিশ মাইরা confession নিছে?”
আইনজীবী চশমা খুলে রাখলেন।
“সেটাই তো প্রথম কাজ।”
“জামিনের রাস্তা কিভাবে তৈরি হয়”
তিনি ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন—
“প্রথমে আমরা বলবো— confession not voluntary.”
“তারপর বলবো— no corroborative evidence.”
“তারপর বলবো— prolonged detention without trial.”
“তারপর— trial unlikely to conclude soon.”
লোকটি ধীরে বলল—
“মানে… সময় বাড়াইতে হবে?”
আইনজীবী এবার হালকা হেসে বললেন—
“বাংলাদেশে সময় নিজেই এক ধরনের defence।”
“মামলা কিভাবে ধীর হয়”
তিনি আঙুল গুনতে শুরু করলেন।
“তদন্ত কর্মকর্তা বদলি।”
“FSL report pending.”
“DNA report আসে নাই।”
“সাক্ষী হাজির না।”
“পিপি বদলি।”
“সিনিয়র আইনজীবী অসুস্থ।”
“Time petition.”
“Certified copy pending.”
“Case diary আসে নাই।”
লোকটি বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো।
“এত কিছু হয় নাকি স্যার?”
আইনজীবী ধীরে বললেন—
“কোর্টে মামলা শুধু আইনে চলে না।
চলে সময়, প্রক্রিয়া আর ধৈর্যে।”
“High Court এ কী হবে?”
লোকটি নিচু গলায় বলল—
“স্যার… হাইকোর্ট কি জামিন দিবে?”
আইনজীবী কিছুক্ষণ চুপ রইলেন।
তারপর বললেন—
“এই দেশের আদালতে impossible বলে কিছু নাই।”
তিনি একটি খসড়া কাগজ টানলেন।
লিখতে লাগলেন:
“The petitioner is in custody for long period…”
“No direct evidence…”
“Confession is retracted…”
“Investigation suffers from material inconsistencies…”
“Bail is rule, jail is exception…”
লোকটি অবাক হয়ে বলল—
“এই কথাগুলাই?”
আইনজীবী মৃদু হাসলেন।
“আইনের অর্ধেক শক্তি facts।
বাকি অর্ধেক language।”
ঠিক তখন বাইরে স্লোগান ভেসে এলো—
“খুনির ফাঁসি চাই!”
চেম্বারের ভেতরে নীরবতা।
তারপর আইনজীবী ধীরে বললেন—
“মানুষ রাগে বিচার চায়।
আদালত সন্দেহে মুক্তি দেয়।”
লোকটি কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল—
“স্যার… তাহলে কি ও বের হয়ে আসতে পারে?”
আইনজীবী চেয়ার হেলান দিলেন।
জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন—
“বাংলাদেশের আদালতে…
কখনো কখনো সত্যের চেয়ে সন্দেহ বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়।”
অধ্যায়–৩
“হাইকোর্টে জামিন শুনানি”
সেদিন সকাল থেকেই হাইকোর্ট এলাকায় অস্বাভাবিক উত্তেজনা।
সাংবাদিকদের ভিড়।
ক্যামেরা।
লাইভ সম্প্রচার।
সবাই জানে আজ “রামিসা হত্যা মামলার” প্রধান আসামির জামিন শুনানি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আগের রাত থেকেই ট্রেন্ডিং—
“খুনির জামিন ঠেকাও”
কেউ লিখছে—
“আজ যদি জামিন হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থা মৃত।”
আদালত কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে আসামির আত্মীয় কাঁপা কণ্ঠে বলল—
“স্যার… আজ কি হবে?”
অ্যাডভোকেট আউয়াল ফাইল বন্ধ করে বললেন—
“আজ আইন কথা বলবে।
আবেগ না।”
আদালত কক্ষ
ডিভিশন বেঞ্চে দুই বিচারপতি।
Court officer ডাক দিল—
“Criminal Miscellaneous No. 1472 of 20—”
রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুত।
সাংবাদিকদের চোখ সেদিকে।
আসামিকে কারাগার থেকে virtual screen এ আনা হয়েছে।
বিচারপতি
“Mr. Awal, this is a very sensitive child murder case.”
আইনজীবী মাথা নত করলেন।
“Indeed, My Lord.”
বিচারপতি
“The accused confessed under section 164.”
রাষ্ট্রপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে বলল—
“My Lords, the brutality shocked the nation.”
আরেকজন বলল—
“Victim was a minor child.”
আদালত কক্ষে চাপা উত্তেজনা।
তারপর defence ধীরে দাঁড়ালো।
Defence
“My Lords, public emotion, however strong, cannot substitute legal proof.”
কোর্টরুম নিস্তব্ধ।
বিচারপতি
“Are you disputing the confession?”
Defence
“Yes, My Lord. The confession has already been retracted.”
রাষ্ট্রপক্ষ তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করল—
“Afterthought, My Lords!”
Defence
“A retracted confession is a weak type of evidence unless materially corroborated.”
তিনি কয়েকটি রায় সামনে রাখলেন।
“Our Apex Court repeatedly held— confession alone is unsafe unless supported by independent evidence.”
বিচারপতি ফাইল উল্টালেন।
“Where is the corroboration issue?”
Defence
“No direct eyewitness.”
“No complete forensic linkage.”
“Recovery doubtful.”
“Chain of circumstances incomplete.”
“Investigation suffers from inconsistencies.”
রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চস্বরে বলল—
“My Lords, releasing him will create public outrage.”
Defence শান্ত গলায় বলল—
“Courts are guardians of law, not guardians of mob sentiment.”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর বিচারপতি জিজ্ঞেস করলেন—
“How long is he in custody?”
রাষ্ট্রপক্ষ নিচু গলায় বলল—
“Fourteen months…”
Defence
“Trial has not even substantially commenced.”
“Only two witnesses examined.”
“Further detention serves no fruitful purpose.”
বিচারপতি এবার কিছুটা কঠিন স্বরে বললেন—
“This Court cannot ignore the gravity.”
আইনজীবী ধীরে উত্তর দিলেন—
“Gravity of allegation and proof of allegation are not the same thing, My Lord.”
আদালত কক্ষে ফিসফাস শুরু হলো।
সাংবাদিকরা দ্রুত নোট নিচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষ
“Victim’s family seeks justice.”
Defence
“And the Constitution seeks fair trial.”
বেঞ্চ নীরব।
কিছুক্ষণ পর বিচারপতি ধীরে বললেন—
“We are inclined to consider…”
রাষ্ট্রপক্ষ বিস্মিত।
আদালত কক্ষে টানটান নীরবতা।
তারপর সেই বহুল আলোচিত লাইনটি এলো—
“Considering the length of detention, nature of evidence, and facts and circumstances…”
বিচারপতি ফাইল বন্ধ করলেন।
“Let the accused be enlarged on bail.”
কোর্টরুমে মুহূর্তের মধ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ল।
সাংবাদিকদের ফোন বেজে উঠলো।
কারো মুখে বিস্ময়।
কারো মুখে ক্ষোভ।
একজন ফিসফিস করে বলল—
“এত বড় মামলায়ও জামিন হয়ে গেল?”
আদালত কক্ষের বাইরে রামিসার মায়ের কান্না।
টিভির ব্রেকিং নিউজ:
“রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামির জামিন”
আর দূরে দাঁড়িয়ে অ্যাডভোকেট আউয়াল ধীরে বললেন—
“আইন কখনো কখনো নির্দোষকে বাঁচায়।
আবার কখনো কখনো সন্দেহের সুযোগে অপরাধীকেও।”
অধ্যায়–৪
“বিচারের অপেক্ষা”
জামিনের আদেশের পর প্রথম কয়েকদিন পুরো দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল।
টেলিভিশনের স্ক্রলে চলছিল—
“শিশুহত্যা মামলার আসামির জামিনে ক্ষোভ”
ফেসবুকে মানুষ লিখছিল—
“টাকা থাকলে সব সম্ভব।”
কেউ আদালতকে দোষ দিচ্ছে।
কেউ আইনজীবীদের।
কিন্তু আদালতের পুরোনো করিডোরগুলো যেন এসবের সাথে বহু আগেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
“জামিন মানে মুক্তি না”
চেম্বারে বসে অ্যাডভোকেট আউয়াল বললেন—
“মানুষ একটা ভুল করে।
জামিন মানে নির্দোষ না।
আবার জেলে থাকা মানেই দোষীও না।”
সোহেল রানার আত্মীয় নিচু গলায় বলল—
“কিন্তু এখন তো সবাই আমাদের শত্রু মনে করে।”
আইনজীবী হালকা হেসে বললেন—
“মামলার প্রথম বছর সবাই আগুন হয়।
তারপর সময় ধীরে ধীরে সব ঠান্ডা করে দেয়।”
“সময়—সবচেয়ে বড় defence”
ছয় মাস কেটে গেল।
তারপর আরও এক বছর।
মামলা চলছে।
আসামি জামিনে।
সাক্ষী–১
আদালতে এসে বলল—
“ঘটনার সময় অন্ধকার ছিল।”
সাক্ষী–২
“আমি নিশ্চিত না কে ছিল।”
সাক্ষী–৩
Hostile।
রাষ্ট্রপক্ষ হতবাক।
কোর্ট ইন্সপেক্টর বিরক্ত হয়ে বলল—
“ঘটনার সময় তো টিভিতে কত কথা বলছিল!”
একজন আইনজীবী মুচকি হেসে উত্তর দিল—
“ক্যামেরার সামনে মানুষ এক কথা বলে।
সাক্ষীর কাঠগড়ায় আরেক কথা।”
“মিডিয়া ভুলে যায়”
যে টেলিভিশন একসময় প্রতিদিন “Breaking News” চালাতো—
তারা এখন নতুন ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত।
নতুন হত্যা।
নতুন দুর্নীতি।
নতুন রাজনৈতিক সংঘর্ষ।
রামিসা ধীরে ধীরে শুধু আদালতের ফাইল হয়ে যাচ্ছে।
“Victim Family Exhaustion”
রামিসার বাবা প্রতিটি তারিখে আদালতে আসতেন।
প্রথমে সাংবাদিকরা ঘিরে ধরতো।
পরে আর কেউ আসে না।
একদিন ক্লান্ত কণ্ঠে তিনি বললেন—
“আর কতদিন?”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী চুপ করে রইলেন।
কারণ তিনি নিজেও জানেন না।
“তারিখের পর তারিখ”
আজ—
সাক্ষী আসে নাই।
পরের তারিখ—
Case diary আসে নাই।
তারপর—
Judge on leave.
তারপর—
রাষ্ট্রপক্ষ প্রস্তুত না।
তারপর—
Defence seeks adjournment.
একদিন রামিসার মা আদালতের বারান্দায় বসে কাঁদতে কাঁদতে বললেন—
“আমার মেয়ে তো একদিনেই মারা গেছে।
কিন্তু বিচারটা কেন মরতে এত সময় লাগে?”
কেউ উত্তর দিল না।
“Compromise Pressure”
এক রাতে সোহেল রানার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় গোপনে যোগাযোগ করলো।
“মামলাটা যদি একটু soft করা যেত…”
রামিসার বাবা ক্ষোভে কাঁপতে লাগলেন।
“আমার মেয়ে মরে গেছে!”
লোকটি নিচু গলায় বলল—
“আমরা সাহায্য করতে চাই…”
অন্যদিকে চেম্বারে বসে অ্যাডভোকেট আউয়াল ধীরে বললেন—
“বাংলাদেশে অনেক মামলা আদালতে না…
মানুষের ক্লান্তিতে শেষ হয়।”
“আইনের ভেতরের বাস্তবতা”
একজন জুনিয়র জিজ্ঞেস করলো—
“স্যার… আপনি কি মনে করেন ও দোষী?”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর তিনি ধীরে বললেন—
“কোর্টে সবচেয়ে dangerous প্রশ্ন হলো—
‘সত্য কী?’”
“কারণ আদালত সবসময় সত্য বিচার করে না।
আদালত বিচার করে— কী প্রমাণ করা গেছে।”
জুনিয়র চুপ।
আইনজীবী জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন—
“অনেক সময় অপরাধী ছাড়া পেয়ে যায়।
আবার অনেক সময় নির্দোষ মানুষও জেলে পচে।
এই দুইটার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বিচারব্যবস্থা।”
ঠিক তখন মোবাইলে নতুন মেসেজ এলো—
“আগামী সপ্তাহে আবার তারিখ পড়েছে।”
আইনজীবী মৃদু হেসে বললেন—
“আরেকটা বছর গেল।”
অধ্যায়–৫
“রায়”
চার বছর।
পুরো চার বছর কেটে গেছে।
রামিসা হত্যাকাণ্ড এখন আর “Breaking News” না।
কোর্টের পুরোনো ফাইলে ধুলা জমেছে।
কিছু সাক্ষী বিদেশে।
কিছু আর খুঁজেই পাওয়া যায় না।
তবুও আজ আদালত কক্ষে অস্বাভাবিক ভিড়।
কারণ আজ রায়।
আদালত কক্ষ
রামিসার বাবা আগের চেয়ে অনেক শুকিয়ে গেছেন।
মা চুপচাপ।
তার চোখে আর আগের মতো আগুন নেই।
শুধু ক্লান্তি।
অন্যদিকে সোহেল রানা জামিনে থেকে নিয়মিত কোর্টে হাজিরা দিয়েছে।
আজও সাদা শার্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে।
তার আইনজীবীদের টেবিলে বিশাল ফাইল।
“শেষ যুক্তিতর্ক”
রাষ্ট্রপক্ষ দাঁড়ালো।
কণ্ঠে চাপা আবেগ।
“My Lord, victim was a helpless child.”
“The accused confessed.”
“The chain of circumstances clearly indicates guilt.”
বিচারক শান্ত।
তিনি নোট নিচ্ছেন।
Defence উঠে দাঁড়ালো
অ্যাডভোকেট আউয়াল ধীরে ফাইল খুললেন।
কোর্টরুম নিস্তব্ধ।
“My Lord, suspicion, however grave, can never take the place of proof.”
তিনি একে একে বলতে লাগলেন—
“No eyewitness.”
“Confession retracted.”
“Material witnesses turned hostile.”
“Forensic report inconclusive.”
“Investigation defective.”
রাষ্ট্রপক্ষ ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলল—
“Technical loopholes cannot erase a child murder!”
আইনজীবী শান্তভাবে উত্তর দিলেন—
“Courts do not convict to satisfy emotion.”
“Courts convict only when guilt is proved beyond reasonable doubt.”
আদালত কক্ষে চাপা গুঞ্জন।
“১৬৪ ধারার জবানবন্দী”
বিচারক সরাসরি প্রশ্ন করলেন—
“Mr. Awal, are you saying confession has no value?”
তিনি ধীরে বললেন—
“No, My Lord.”
“But law is settled— a retracted confession requires strong independent corroboration.”
তিনি কয়েকটি precedent তুলে ধরলেন।
রাষ্ট্রপক্ষ বারবার বাধা দিচ্ছে।
কিন্তু Bench মনোযোগ দিয়ে শুনছে।
“সবচেয়ে ভয়ংকর বাক্য”
এরপর আইনজীবী ধীরে বললেন—
“My Lord, ten guilty persons may escape, but one innocent person should not suffer.”
রামিসার মা হঠাৎ কেঁদে উঠলেন।
আদালত কক্ষ নিস্তব্ধ।
“বিচারকের নীরবতা”
বিচারক দীর্ঘসময় চুপ করে রইলেন।
তার সামনে:
confession,
hostile witness,
media pressure,
procedural defects,
এবং আইনের কঠোর মানদণ্ড।
তিনি জানেন—
যদি দণ্ড দেন, উচ্চ আদালতে overturn হতে পারে।
যদি খালাস দেন, দেশ উত্তাল হবে।
“রায়”
বিচারক অবশেষে ফাইল বন্ধ করলেন।
কোর্টরুম নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে।
“The prosecution has failed to prove the charge beyond reasonable doubt…”
রাষ্ট্রপক্ষ স্তব্ধ।
“Benefit of doubt…”
রামিসার মা চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন।
“Accordingly, the accused is acquitted.”
পুরো আদালত কক্ষ থমকে গেল।
কারো মুখে অবিশ্বাস।
কারো মুখে রাগ।
কারো মুখে নীরবতা।
“বাইরের পৃথিবী”
কোর্টের বাইরে সাংবাদিকদের ভিড়।
Breaking News:
“রামিসা হত্যা মামলায় খালাস”
ফেসবুকে আবার ঝড়।
“বিচার মরে গেছে।”
“টাকা সব কিনে নেয়।”
“এই দেশে বিচার নাই।”
কিন্তু আদালতের রায়ে অন্য ভাষা লেখা:
“Benefit of Doubt.”
“শেষ দৃশ্য”
রাত।
চেম্বারে একা বসে আছেন অ্যাডভোকেট আউয়াল।
তার জুনিয়র ধীরে জিজ্ঞেস করল—
“স্যার… সত্যিই কি ও নির্দোষ ছিল?”
অনেকক্ষণ নীরবতা।
তারপর তিনি ধীরে বললেন—
“আমি জানি না।”
“আর আদালতও অনেক সময় জানে না।”
জুনিয়র বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো।
আইনজীবী জানালার বাইরে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বললেন—
“বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি কী জানো?”
“কখনো কখনো সত্য হেরে যায় প্রমাণের কাছে।
আবার কখনো প্রমাণ হেরে যায় দক্ষ আইনের কাছে।”
তারপর টেবিলের উপর পড়ে থাকা রামিসার ছবিটির দিকে তাকিয়ে তিনি ধীরে ফিসফিস করলেন—
“আর মাঝখানে হারিয়ে যায়…
একটা শিশুর জীবন।”
সমাপ্ত।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment