৪ মন্ত্রীর পদত্যাগ

 ৪ মন্ত্রীর পদত্যাগ


ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর আস্থা হারানোর অভিযোগ তুলে মন্ত্রিসভা থেকে আরও এক জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চারজন জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করে স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।


মঙ্গলবার (১২ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সর্বশেষ পদত্যাগকারী মন্ত্রী জুবাইর আহমেদ ব্রিটিশ সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে জুবাইর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাবলি থেকে স্পষ্ট যে যুক্তরাজ্যের জনগণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রতি আস্থা হারিয়েছে।”


এর আগে আরও তিনজন জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। জুবাইরের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির যেসব এমপি কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ বা দায়িত্ব ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন, তাদের সংখ্যা বেড়ে ৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে।


গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। দলটির একাংশের এমপিরা প্রকাশ্যে বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন এবং স্টারমারের কাছে নেতৃত্ব হস্তান্তরের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।


এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি মন্ত্রীদের জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর গত ৪৮ ঘণ্টায় তার পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে যে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা সত্ত্বেও তিনি সরকার পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাবেন।


ক্যাবিনেট বৈঠকে স্টারমার বলেন, তিনি লেবার পার্টির সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় স্বীকার করছেন। তবে দলের ভেতরে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বৈঠকে তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীও প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।


২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নানা কেলেঙ্কারি ও নীতিগত ইউটার্নের কারণে চাপে রয়েছে। এর ফলে দলের নেতৃত্ব ও বিদ্রোহী এমপিদের মধ্যে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দলীয় অভ্যন্তরেও তার প্রতি সমর্থন কমতে শুরু করেছে।


লেবার পার্টির পরিচিত এমপি ও নারী অধিকারকর্মী জেস ফিলিপস মঙ্গলবার পদত্যাগকারী চারজন জুনিয়র মন্ত্রীর একজন। এ ছাড়া ৮০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে স্টারমারকে পদ ছাড়ার সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।


রয়টার্স জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে সরকারের ঋণগ্রহণ ব্যয় প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টা সরকারের জন্য অস্থিতিশীল ছিল এবং এর প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য দেশ ও সাধারণ পরিবারগুলোকে দিতে হচ্ছে।


ডাউনিং স্ট্রিটের বরাত দিয়ে জানানো হয়, স্টারমার ক্যাবিনেটকে বলেন, লেবার পার্টিতে নেতাকে চ্যালেঞ্জ করার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেটি এখনো শুরু হয়নি। দেশ আশা করে আমরা সরকার পরিচালনায় মনোযোগ দেব। আমি সেটাই করছি এবং আমাদের পুরো ক্যাবিনেটকেও সেটাই করতে হবে।


বৈঠক শেষে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী স্টারমারের প্রতি সমর্থন জানান। পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন সাংবাদিকদের বলেন, “ক্যাবিনেট বৈঠকে কেউই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেননি।”


পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কেউই দলের নিয়ম অনুযায়ী নেতৃত্বের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেননি। যারা স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন, কে ভালো বিকল্প হতে পারেন তাও তাদের বলা উচিত।

সূত্র : কালবেলা

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

সেক্সের সময় স্তনের ভূমিকা: ইসলাম কী বলে? লেখাটি প্রত্যেকের পড়া উচিত

একজন স্ত্রী তিনটি জায়গায় উ*ল*ঙ্গ হলেও গুনাহ নেই — ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি

সন্তান বড় হলে স্বামী-স্ত্রী কিভাবে যৌ*ন চাহিদা পূরণ করবে! এক মিনিট সময় নিয়ে লেখাটি বিস্তারিত পড়ুন।