সন্তানকে মিথ্যা বলে কিভাবে সঠিক পথে নিবেন?লেখাটি প্রতিটা মাকে পড়ার অনুরোধ রইল!
সন্তানকে মিথ্যা বলে কিভাবে সঠিক পথে নিবেন?লেখাটি প্রতিটা মাকে পড়ার অনুরোধ রইল!
সন্তানের জন্য ৩০ দিনে ৩০টি দোয়া ও আমল সিরিজ
📖 পর্ব ১ — সন্তান নামাজ পড়তে চায় না — কী করবেন?
রাত তখন সাড়ে নয়টা।
নাসরিন ছেলেকে ডাকলেন —
“বাবা, এশার নামাজ পড়েছ?”
ছেলে মোবাইলের দিকে তাকিয়েই বলল —
“একটু পরে পড়ব।”
একটু পর সেই “পরে” আর আসে না।
ঘণ্টাখানেক পরে মা আবার বললেন —
“বাবা, নামাজটা পড়ে নাও।”
ছেলে বিরক্ত হয়ে বলল —
“আচ্ছা মা! এত বলো কেন?”
নাসরিন চুপ হয়ে গেলেন।
কারণ এটা আজকের ঘটনা না।
প্রতিদিনই একই কথা।
নামাজের সময় হলে ছেলে গড়িমসি করে।
কখনো মোবাইল, কখনো গেম, কখনো পড়ার অজুহাত।
কিন্তু রাতে সিজদায় গিয়ে নাসরিনের বুক ভেঙে কান্না আসে।
তিনি শুধু ভাবেন —
“আমার সন্তান নামাজ ভালোবাসে না কেন?”
এই কষ্টটা শুধু নাসরিনের না।
অনেক মা-বাবাই বলেন —
“ছেলে ছোটবেলায় নামাজ পড়ত, এখন পড়ে না।”
কেউ বলেন —
“ডাকলে রাগ করে।”
কেউ বলেন —
“মসজিদে যেতে চায় না।”
কিন্তু একটা কথা বুঝতে হবে —
নামাজ শুধু একটা অভ্যাস না।
এটা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক।
আর সম্পর্ক জোর করে তৈরি হয় না।
ভালোবাসা দিয়ে তৈরি হয়।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
“তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের আদেশ দাও।”
(আবু দাউদ: ৪৯৫)
কিন্তু আমরা অনেক সময় আদেশ দিই,
ভালোবাসা শেখাই না।
সন্তান নামাজ থেকে দূরে যায় কেন?
কারণ অনেক সময় সে নামাজকে বোঝা মনে করে।
ভয় পায়।
শুধু বকা শুনে।
কিন্তু নামাজের সৌন্দর্য অনুভব করে না।
তাই প্রথম কাজ —
সন্তানের হৃদয়ে নামাজের ভালোবাসা তৈরি করা।
আজকের দোয়া:
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي
উচ্চারণ: রাব্বিজ আলনী মুকীমাস সালাতি ওয়া মিন জুররিয়্যাতি।
অর্থ: হে আমার রব, আমাকে ও আমার সন্তানদের নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী বানান।
(সূরা ইবরাহিম: ৪০)
কীভাবে আমল করবেন?
এক. ফজরের পর ১১ বার এই দোয়াটি পড়ুন। সন্তানের মুখ মনে করুন।
দুই. প্রতিদিন অন্তত এক ওয়াক্ত সন্তানকে পাশে নিয়ে নামাজ পড়ুন।
তিন. সন্তান নামাজ পড়লে সাথে সাথে সমালোচনা নয় —
প্রথমে তাকে উৎসাহ দিন।
চার. নামাজ না পড়লে শুধু রাগ নয় —
রাতে তাহাজ্জুদে তার জন্য কান্না করুন।
মনে রাখবেন —
হেদায়েত বকা দিয়ে আসে না।
আসে দোয়া দিয়ে।
সন্তানের হৃদয় বদলানোর ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই।
কিন্তু সেই হৃদয়ের মালিক আল্লাহ।
তাই সন্তানের জন্য হতাশ না হয়ে —
দোয়া চালিয়ে যান।
হয়তো কোনো এক রাতে আপনার সন্তানের সিজদাই হবে আপনার চোখের সবচেয়ে বড় শান্তি।
📌 আগামীকাল পর্ব ২ আসছে —
“সন্তান মোবাইলে আসক্ত — ইসলামিকভাবে কী করবেন?”
আপনার সন্তানের বয়স কত?
নামাজ নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?
কমেন্টে লিখুন —
“বয়স: __ / সমস্যা: __”
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment