আমার স্বামীর গোপন দ্বিতীয় স্ত্রী আজ আমার চেম্বারে এসেছিল আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করাতে।

 আমার স্বামীর গোপন দ্বিতীয় স্ত্রী আজ আমার চেম্বারে এসেছিল আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করাতে।


না, আমি আগে কিছুই জানতাম না।


রোগী হিসেবে মেয়েটাকে দেখছিলাম স্বাভাবিকভাবেই। বয়স খুব বেশি না, শান্ত-সুন্দর মুখ, চোখেমুখে অদ্ভুত এক মাতৃত্বের উজ্জ্বলতা। রিপোর্ট দেখার সময় আমি হালকা হেসে বলেছিলাম,


— “এই খুশির দিনে আপনার হাসবেন্ড আসেননি সাথে?”


মেয়েটা লাজুক হেসে বলল,


— “আসলে ম্যাডাম, আমার স্বামী ব্যবসা নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকে। সবসময় ঝামেলার মধ্যে থাকতে হয় ওনাকে।”


এরপর নিজের মোবাইল বের করে বলল,


— “এই দেখুন, এটা আমাদের ছবি…”


আমি ছবিটার দিকে তাকাতেই যেন পৃথিবীটা থেমে গেল।


আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠল। নিঃশ্বাস আটকে এলো।

কারণ ছবিতে থাকা মানুষটা আর কেউ না—


সায়ন।

আমার স্বামী।


মুহূর্তের মধ্যে মনে হলো পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। চারপাশ ঝাপসা হয়ে এলো। তবুও বহু কষ্টে নিজের মুখের অভিব্যক্তি স্বাভাবিক রাখলাম। মেয়েটা কিছুই বুঝতে পারল না।


আমি কাঁপা গলায় শুধু বললাম,


— “রিপোর্ট ঠিক আছে। সাবধানে থাকবেন।”


মেয়েটা খুশিমনে বিদায় নিয়ে চলে গেল।


দরজা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই আমি আমার অ্যাসিস্ট্যান্টকে বললাম,


— “আজ আর কোনো রোগী দেখব না। বাকিদের অন্য ডেট দিয়ে দাও।”


ভেতর থেকে দরজা লক করেই ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়লাম।


আমার পুরো শরীর কাঁপছিল। হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে। টেবিলের ওপর রাখা পানির গ্লাসটা ধরতে গিয়ে হাত ফসকে মেঝেতে পড়ে ভেঙে গেল।


ঠিক আমার বিশ্বাসটার মতো।


ছবির সেই মানুষটা—

যে প্রতিদিন সকালে আমার আর আমাদের ছয় বছরের ছেলে আদ্রির কপালে চুমু খেয়ে অফিসে যায়…

যে রাতে ফিরে ছেলেকে বুকে নিয়ে গল্প শোনায়…

সে আরেকটা মেয়ের স্বামী!


আর সেই মেয়েটা এখন তার সন্তানের মা হতে চলেছে।


মেয়েটার নাম ছিল মেহরীন।


“স্বামী ব্যবসা নিয়ে খুব ব্যস্ত”— কথাটা এখন কানের ভেতর বিদ্রুপের মতো বাজছে।


হঠাৎ গত এক বছরের সব ঘটনা পরিষ্কার হতে শুরু করল।


সায়ন প্রায়ই বলত,


— “ব্যবসার কাজে বাইরে যেতে হবে।”


কখনো চট্টগ্রাম, কখনো সিলেট, কখনো আবার কক্সবাজার। তিন-চার দিন করে বাসার বাইরে থাকত।


আমি বিশ্বাস করতাম।


ভাবতাম মানুষটা সংসারের জন্য কত পরিশ্রম করছে।


অথচ সে তখন অন্য এক সংসারে সময় দিচ্ছিল।


আমার বুকের ভেতর জমে থাকা কান্না হু হু করে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। কিন্তু আমি নিজেকে শক্ত করলাম।


না।

এখন ভেঙে পড়লে চলবে না।


আমার একটা সন্তান আছে। আদ্রির ভবিষ্যৎ আছে।


আমি যদি আবেগে ভুল করি, তাহলে সায়নের মতো ধূর্ত মানুষ খুব সহজেই সবকিছু সামলে ফেলবে। হয়তো মেয়েটাকেও অস্বীকার করবে। নিজেকে নির্দোষ সাজাবে।


আমি ব্যাগটা গুছিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে বের হলাম।


পুরো রাস্তা জুড়ে শুধু আদ্রির মুখটাই চোখের সামনে ভাসছিল।


ও এখনো জানে—


ওর বাবা পৃথিবীর সেরা বাবা।


বাসায় পৌঁছাতে সন্ধ্যা সাতটা বাজল।


কলিংবেল বাজাতেই আদ্রি দৌড়ে এসে দরজা খুলল।


— “আম্মু! আজ এত তাড়াতাড়ি?”


আমি জোর করে হাসলাম।


ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেয়ে বললাম,


— “হ্যাঁ বাবা, আজ আম্মুর একটু কাজ কম ছিল।”


ছেলেকে রুমে পাঠিয়ে আমি ড্রয়িংরুমে এসে বসলাম।


দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।


রাত নয়টার দিকে সায়ন বাসায় ফেরে।


আজও ফিরবে।


তবে আজকের রাতটা আর পাঁচটা দিনের মতো হবে না।


আজ আমি চিৎকার করব না।

ঝগড়াও করব না।


আমি চাই—


সায়ন নিজের মুখে সত্যিটা স্বীকার করুক।


আর আমি সেটা এমনভাবে বের করব, যেভাবে সে কল্পনাও করতে পারবে না।


ঠিক রাত নয়টা দশ মিনিটে দরজার লক খোলার শব্দ হলো।


সায়ন ভেতরে ঢুকল। হাতে মিষ্টির প্যাকেট। মুখে সেই পরিচিত ক্লান্ত অথচ মায়াবী হাসি।


আমার ভেতরে জমে থাকা ঘৃণাটা আগুনের মতো জ্বলে উঠল।


তবুও ঠোঁটে হাসি টেনে আমি বললাম,


— “আজ এত খুশি কেন?”


সায়ন জ্যাকেট খুলতে খুলতে হেসে বলল,


— “একটা বড় ডিল ফাইনাল হয়েছে আজ। অনেকদিনের ঝামেলা শেষ।”


আমি স্থির চোখে ওর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললাম—


“না সায়ন…

ঝামেলা তো আজ থেকেই শুরু।”


চলবে…

দুই ছাদের নিচে

লেখক: নুসরাত জাহান ফারিয়া (সংস্কারিত সংস্করণ


পর্ব – ০১

অতি দ্রুতই পর্ব–০২ পোস্ট করা হবে সবাই পেজটি ফলো করে ছোট একটা কমেন্ট করবেন তাহলে দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

সোহেল বলেন,আমি একা রামিসাকে হ`ত্যা করিনি, আমার সাথে ছিলো রামিসার নিজের আপন...

সেক্সের সময় স্তনের ভূমিকা: ইসলাম কী বলে? লেখাটি প্রত্যেকের পড়া উচিত

একজন স্ত্রী তিনটি জায়গায় উ*ল*ঙ্গ হলেও গুনাহ নেই — ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি