লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি, দাম বাড়ানো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত সরকারের

 লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি, দাম বাড়ানো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত সরকারের



প্রচ্ছদ হেড লাইন লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি, ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার

লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি, ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার


যুদ্ধের প্রভাবে দেশের জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অস্বাভাবিক ভর্তুকির লাগাম টানতে বাসাবাড়িতে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পাশাপাশি পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ৩টি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। যাতে ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হ্রাস পায়। তবে বিদ্যুতের প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।


মন্ত্রিসভার সম্মতি পেলে প্রস্তাব পাঠানো হবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বলছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।


এদিকে বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যেই ১৮ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় এলপি গ্যাসের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু মানুষের আয় সেই হারে না বাড়ায় ব্যয়ের চাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।


বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের জন্য গত ৯ এপ্রিল উচ্চপর্যায়ের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন হয়। অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এ ছাড়া অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিবরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটি বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দামের পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে মন্ত্রিসভার জন্য সুপারিশ দেবে।


মূল্যবৃদ্ধির জন্য এরইমধ্যে প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ স্বাক্ষরিত এই প্রস্তাবে বলা হয়, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দুই বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম না বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গিয়ে ভর্তুকির পরিমাণও দ্রুত বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে কৃচ্ছ্রনীতি, অন্যদিকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। উচ্চমূল্যেও এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে কয়লার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে বেসলোড বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘ্নিত না হয়। তবে এসব উদ্যোগের ফলে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।


এতে বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যুতের গড় পাইকারি মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে সামাল দিতে হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে এই চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


পাইকারির তিন প্রস্তাব: বিদ্যুৎ বিভাগ পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে। বর্তমান ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট হবে ৭ টাকা ৫৪ পয়সা। এতে ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ভর্তুকি কমবে। ১ টাকা বাড়িয়ে পাইকারি দাম ৮ টাকা ৪ পয়সা হলে ভর্তুকি ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা কমতে পারে। পাইকারি মূল্য প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ২৪ পয়সা করলে ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।


খুচরা দাম বৃদ্ধি: পাইকারি মূল্যর পাশাপাশি খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের সুরক্ষায় শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত লাইফলাইন পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়নি। অন্য আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে ধাপে ধাপে ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।


বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলংকা আবাসিক খাতে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, শিল্প খাতে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি দেশটি পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সিঙ্গাপুরে জ্বালানির মূল্য সরাসরি ট্যারিফে সমন্বিত হওয়ায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।


প্রযুক্তি গ্যাজেট


আইএমএফের চাপ: বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ২০২৫ সালে বিদ্যুৎ খাত পর্যালোচনায় একটি কারিগরি মিশন পাঠায়, যা বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে টানা দুই সপ্তাহ আলোচনা করে। তাদের সুপারিশে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে দক্ষতা বাড়ানো এবং ভর্তুকি কমাতে তিন বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন দরকার। একই সঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সুরক্ষা রেখে ধাপে ধাপে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়।জ্বালানি নিয়ে চাপে সরকার: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। মার্চ ও এপ্রিল মাসে শুধু স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতেই অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। জ্বালানি তেলে দৈনিক গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। চলতি বাজেটে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪২ হাজার কোটি। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই অর্থ পর্যাপ্ত নয়। আগামী জুন পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে আরও প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছ।


আইন নিয়ে বিতর্ক: আইনগতভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও সংস্থাটি ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে গণশুনানির মাধ্যমে নিয়মিত ট্যারিফ নির্ধারণ শুরু করে। উৎপাদন ব্যয়, আমদানি খরচ ও ভর্তুকির হিসাব বিবেচনায় নিয়ে এ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতার প্রধান ভিত্তি ছিল। তবে ২০২২ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে সরকার সরাসরি দাম নির্ধারণের ক্ষমতা নিজেদের হাতে নেয়। ফলে গণশুনানি ছাড়াই গেজেটের মাধ্যমে মূল্য সমন্বয়ের পথ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার আবারও গণশুনানি প্রক্রিয়া পুনর্বহালের উদ্যোগ নেয় এবং বিইআরসিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করে।


সাধারণ মানুষ বলছেন, গ্যাসের দাম একাধিকবার বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ এমনিতেই কষ্টে পড়ছে। এরমধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়লে সেটি হবে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। কারণ বিদ্যুৎ বিল বাড়লে বাড়িভাড়াও বাড়বে, ফলে জীবনযাত্রার চাপ আরও বেড়ে যাবে।


মন্ত্রিসভার সম্মতির পর এসব প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে পাঠানো হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি এখনো খুব প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত কিছু হয়নি।


বিদ্যুতের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কতটা বাড়বে এবং অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় দাম না বাড়িয়ে ব্যয় কমিয়ে ঘাটতি সমন্বয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, ঘাটতি বাড়ার মূল কারণ অপচয় ও অযৌক্তিক ব্যয়। এই ব্যয়ের উৎস খুঁজে বের করে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মুনাফা বাদ দিয়ে বিদ্যুতের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে। আগে ঘাটতির প্রকৃত চিত্র পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করতে হবে। তারপরই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত কীভাবে সেই ঘাটতি সমন্বয় করা হবে।


তবে দাম না বাড়িয়ে কীভাবে ঘাটতি কমানো সম্ভব, সে পথও বাতলে দিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের এই জ্বালানি উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, যদি কয়লার সরবরাহ বাড়ানো যায় এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তাহলে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎসহ ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের প্রয়োজন কমে যাবে। এতে বড় অঙ্কের খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। এভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা যেতে পারে।


এদিকে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে দাম না বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে এখন বিকল্প চিন্তা করতে হচ্ছে সরকারকে।


আইন অনুযায়ী দেশের বিদ্যুৎ জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের (বৃদ্ধি অথবা হ্রাস) এখতিয়ার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। কাজটি করা হয় গণশুনানির মাধ্যমে একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে নির্বাহী আদেশে দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে।


বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা উঠলেও সরকারের ঘোষণা ছিল দাম না বাড়ানোর। কিন্তু যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠলে নতুন করে আবার মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ নিয়ে কাজও শুরু হয়েছে।


এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ আইনগত কাঠামোর সঙ্গে আংশিক দ্বন্দ্ব তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ আইনে বলা আছে, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এলে তা বিইআরসির মাধ্যমে যাচাই ও গণশুনানির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

সেক্সের সময় স্তনের ভূমিকা: ইসলাম কী বলে? লেখাটি প্রত্যেকের পড়া উচিত

একজন স্ত্রী তিনটি জায়গায় উ*ল*ঙ্গ হলেও গুনাহ নেই — ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি

সন্তান বড় হলে স্বামী-স্ত্রী কিভাবে যৌ*ন চাহিদা পূরণ করবে! এক মিনিট সময় নিয়ে লেখাটি বিস্তারিত পড়ুন।