পৃথিবীতে কোনো প্রাণীর সিজার লাগে না, মানুষের কেন লাগবে?

 পৃথিবীতে কোনো প্রাণীর সিজার লাগে না, মানুষের কেন লাগবে?



সিজারের আগে মেরুদণ্ডে যে ইনজেকশন পুশ করা হয়, সেই ইনজেকশনটা কে দেন- মহিলা ডাক্তার নাকি পুরুষ ডাক্তার? এই ইনজেকশনের কু-প্রভাবে পরবর্তীতে কী কী ক্ষতি হয় জানেন? সিজারের শতভাগ কাজ কি মহিলা ডাক্তাররাই করেন নাকি কিছু কাজে পুরুষ ডাক্তারের সাহায্য নিতে হয়? এর ফলে পুরুষ ডাক্তার ও গর্ভবতী মহিলা উভয়ে কি (বেপর্দার কারণে) গুনাহগার হচ্ছেন না?


গর্ভবতীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চেক-আপ করে ডাক্তার সাধারণত তিনটি ডায়লগের যে কোনো একটি দিয়ে থাকেন-

১. বাচ্চা পানি-শূন্যতায় আছে।

২. বাচ্চা পেটের ভিতরে পায়খানা করে দিয়েছে।

৩. বাচ্চার পজিশন উল্টো।

এই কথাগুলোর যে কোনো একটা শোনার পর গর্ভবতী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থা কী হতে পারে- একটিবার চিন্তা করুন তো?


বাংলাদেশের সকল বেসরকারি হাসপাতালের গত পাঁচ বছরের ডেলিভারি রিপোর্ট ঘাঁটলে দেখা যাবে ৯৭% সিজারে ডেলিভারি করানো হয়েছে (বাকিদের ক্ষেত্রে সুযোগ পাই নাই; অল্পের জন্য ফস্কে গেছে)! ১০০ জন মহিলা ডাক্তারের মধ্যে একজন কেউ পাবেন না- যার নিজের সিজার হয়েছে, অথচ সাধারণ মানুষ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাওয়া মাত্রই সিজার! প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ব্যবসার জন্য যারা সিজার করে, আল্লাহর কাছে তাদের কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে!


সিজারে এতো টাকা বিল আসে কেন, যাচাই করার কোনো উপায় কি আছে? সিজারের শুরুতে এক কার্টুন ঔষধ ও.টি-তে নেওয়া হয়, তার সবগুলোই কি কাজে লাগে? বাকি ঔষধ (আসলে ড্রাগস) যায় কোথায়?


সিজার মানে একটা মায়ের জীবন শেষ; সিজার মানে একজন মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিবন্ধী হয়ে বেঁচে থাকা! পার্থক্যটা খেয়াল করুন- যাদের নরমাল ডেলিভারি হয়, তাদের নাড়ি ছেঁড়া ধন হয়; কিন্তু যাদের সিজার হয়, তাদের নাড়ি কাটা ধন! 


সিজার মানে শুধু পেট কাটা নয়, সাতটা পর্দা কেটে নবজাতককে দুনিয়াতে আনতে হয়। সিজার করানোর সময় এ্যানেসথেসিয়ার জন্য বোঝা যায় না পেট কাটার যন্ত্রণা! খেয়াল করে দেখবেন- আধাঘণ্টার মধ্যে তিনটা স্যালাইন শেষ হয়! কিন্তু মোটা সিরিঞ্জ দিয়ে মেরুদণ্ডে দেওয়া ইনজেকশনটা প্রত্যেক সিজারিয়ান মা-কে সারাজীবন কষ্ট দেয়- মায়েদের শরীরের বিভিন্ন জায়গা অবশ হয়ে থাকে, বসা থেকে উঠতে পারে না, সংসারের যাবতীয় কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়!


অবসের মেয়াদ যখন ফুরিয়ে যায়, প্রত্যেকটা মা তখন গলা ছেলা মুরগির মতো ছটফট করতে থাকে। সিজারিয়ান মায়ের শরীরে ২৪ ঘণ্টা একটানা স্যালাইন চলে..! শরীরের কাটা জায়গার ব্যাথার জন্য ক্যানোনিকাল স্যালাইন চলে টানা ৩২ ঘণ্টা! অন্তত দুইদিন শরীরে খিচুনি ও মাথা ভারী হয়ে বিছানায় পরে থাকতে হয় প্রত্যেকটা মাকে।


আমাদের দাদা-দাদী/নানা-নানীর দিকে তাকালে দেখবেন- বুড়ো বয়সেও কত শক্তিশালী? দাদা/নানারা ৮০ বছর বয়সেও অনেক দূর হেঁটে নামাজ পড়তে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বাবা/মায়েরা কোমর ব্যাথা, হাঁটু ব্যাথা, হাড়ক্ষয় জনিত অসুখে ভুগছেন! দাদী-নানিরা ১০/১২টা বাচ্চার জন্ম দিয়েছেন, আল্লাহর রহমতে তাঁদের তো কোনো সমস্যা হয়নি?


যথাসম্ভব সিজারকে না বলুন..! কথিত করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সিজারের হার কমেছিল। লকডাউনে দেশে ১ লাখ ৭৫ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ৪% শিশুর জন্ম হয়েছে সিজার করে। বাকি ৯৬% শিশুর জন্ম হয়েছে নরমালে। তখন তো সমস্যা হয়নি? গবেষণায় আরো দেখা গেছে- সিজারের বাচ্চাদের ভবিষ্যতে রোগ-বালাই বেশি হয়। শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল!


সিজার ডেলিভারির জন্য অধিকাংশ মায়েরা অর্ধ-পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। যে কোনো মূল্যে এই অপতৎপরতা ঠেকাতে হবে- মা’কে বাঁচান, বাচ্চাদেরকে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে দিন।


আগে গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখতেন, কিন্তু বর্তমানে ভরসা ডাক্তারের উপর। দু-তিন মাস যেতে না যেতেই স্বামীকে বলেন- আমারে চেক-আপ করান, বাচ্চা মনে হয় উল্টা হয়ে আছে। ক্লিনিকে গেলে "কিছু কসাই" ভয়ের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে গর্ভবতী মা মানসিক ও শারীরিকভাবে আরো দুর্বল হয়ে পড়েন।


আগেকার গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় অনাগত সন্তানের কল্যাণ চিন্তা করে পবিত্র কোরান পড়তেন, নামাজ আদায় করতেন, ঘরে বসে আল্লাহর জিকির করতেন, কিন্তু এখন গর্ভাবস্থায় ২৪ ঘণ্টা ডিশ লাইনে ডুবে থাকে- কুটনামি দেখে! আগের গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় সব ধরনের সাংসারিক কাজ করতো, এমনকি ঢেঁকিতে ধান ভানতো। তখনকার গর্ভবতী মা-দের পেট-পিঠ সহজে কোনো পরপুরুষ দেখতে পায়নি। কিন্তু বর্তমানে সবার নজর লাগে, অনেকেই বেপর্দায় চলাফেরা করেন। আসলে নিয়তই ঠিক নাই, সমস্যা তো হবেই..!


আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন!

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

সেক্সের সময় স্তনের ভূমিকা: ইসলাম কী বলে? লেখাটি প্রত্যেকের পড়া উচিত

একজন স্ত্রী তিনটি জায়গায় উ*ল*ঙ্গ হলেও গুনাহ নেই — ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি

সন্তান বড় হলে স্বামী-স্ত্রী কিভাবে যৌ*ন চাহিদা পূরণ করবে! এক মিনিট সময় নিয়ে লেখাটি বিস্তারিত পড়ুন।