আমার বাসর রাতেই, শ্বশুর হঠাৎ করে আমার হাতে এক লাখ টাকার বান্ডিল গুঁজে দিয়ে খুব নিচু গলায় বলেছিলেন

 😥আমার বাসর রাতেই, শ্বশুর হঠাৎ করে আমার হাতে এক লাখ টাকার বান্ডিল গুঁজে দিয়ে খুব নিচু গলায় বলেছিলেন—“বাঁচতে চাইলে, এখনই চলে যাও।”



এক সেকেন্ডের জন্য আমার দুনিয়া অন্ধকার হ'য়ে গিয়েছিল। 

ভয় ঠিক তখনই শুরু হয়নি—ভয়টা যেন আগে থেকেই ছিল, শুধু এতদিন আমি সেটা বুঝতে চাইনি।


আমার বয়স ছাব্বিশ বছর, আমি ঢাকার একটি মাঝারি আকারের রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতাম। কাজের সূত্রেই ওর সঙ্গে পরিচয়—দুই কোম্পানির যৌথ একটা প্রজেক্ট ছিল উত্তরায়।


আমার স্বামীর নাম রাশেদ মাহমুদ।আমার চেয়ে তিন বছরের বড়। কথাবার্তায় আত্মবিশ্বাস, পোশাকে পরিপাটি, অফিসে সবাই ওর কথা শুনত। খুব দ্রুত প্রোমোশন পাচ্ছিল। আর সবচেয়ে বড় কথা—ও ছিল ভীষণ প্রভাবশালী, ধনী পরিবারের একমাত্র ছেলে।


সবকিছু অস্বাভাবিক দ্রুত ঘটেছিল।পরিচয়ের ছয় মাসের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব।এক বছরও হয়নি—আমরা আজ ই বিয়ে করে ফেললাম।

আমার পরিবার ছিল একেবারেই সাধারণ।

বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, মা গৃহিণী। খুব হিসেবি মানুষ। জীবনে কখনো বড় ঝুঁকি নেয়নি।

রাশেদের পরিবার যখন আনুষ্ঠানিকভাবে আমার হাত চাইতে এলো, মা আনন্দে কেঁদে ফেললেন। বাবা কিছুই বললেন না—অনেকক্ষণ চুপ করে বসে ছিলেন। শেষে শুধু একবার মাথা নেড়েছিলেন।


আমি সেটাকেই সম্মতি ধরে নিয়েছিলাম।

আমি সবসময় ভেবেছি—যুক্তি দিয়ে জীবন চলে, ভয় দিয়ে না।


কখনো ভাবিনি, এই বিশ্বাসটাই আমাকে বিপদের দিকে ঠেলে দেবে।


বিয়েটা হয়েছিল পাঁচ তারকা হোটেলে—গুলশানে।

ঝাড়বাতি, ফুলের সাজ, দামি পারফিউমের গন্ধ।

চারদিকে মানুষজন বলছিল,

“মাশাআল্লাহ, কী কপাল!”

“এই মেয়ের তো জীবন সেট হয়ে গেছে।”


আমি হাসছিলাম।আমি টাকা বা স্ট্যাটাসের জন্য বিয়ে করিনি।আমি বিয়ে করেছিলাম, কারণ ভেবেছিলাম—ওর পাশে আমি নিরাপদ থাকব, হয়তো ভালোও বাসতে শুরু করেছিলাম। 

এই বিশ্বাস টিকেছিল ঠিক এক রাত।

বাসরঘরের ঢোকার আগেই, হোটেলের হলের বাইরের করিডোরে শ্বশুর আমাকে থামালেন।

তিনি বরাবরই গম্ভীর মানুষ। খুব বেশি কথা বলতেন না। আমাকে পছন্দ করতেন কি না—আমি কখনো বুঝতে পারিনি।


কিন্তু সেদিন আজ যা করলেন, তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।

কিছু না বলে তিনি আমার হাতে কিছু গুঁজে দিলেন।

আমি নিচে তাকালাম।

এক হাজার টাকার নোট—মোট এক লাখ টাকা হবে। 

তারপর খুব কাছে এসে ফিসফিস করে বললেন,

“বাঁচতে চাইলে, এখনই বের হয়ে যাও।”

আমার হাত কাঁপতে শুরু করল।

“আমি বুঝতে পারছি না,” আমি বললাম। “আপনি কী বলছেন?”


তিনি আমার কবজি শক্ত করে ধরলেন। চারপাশে কেউ শুনছে কি না দেখলেন। তারপর বললেন—

“প্রশ্ন কোরো না। গেটের বাইরে একটা সাদা গাড়ি থাকবে। কেউ তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। উঠে পড়বে। আর… আর কখনো ফিরে আসবে না।”


আমি কাঁপা গলায় বললাম,

“কেন? কী হয়েছে?”

তিনি শুধু বললেন,

“আমি এর বেশি কিছু বলতে পারব না।”

এক মুহূর্তের জন্য তার চোখের দিকে তাকালাম।

আমি সেখানে কোনো রাগ দেখিনি।

আমি দেখেছিলাম—ভয়।

মনে হচ্ছিল, আমাকে সাহায্য করাটাই হয়তো তার নিজের জন্য বিপজ্জনক।


তারপর তিনি আমার হাত ছেড়ে দিলেন, আর হলের ভেতরে ফিরে গেলেন—যেন কিছুই হয়নি।


ভেতরে তখন গান বাজছে।হাসি। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ।

সবকিছু হঠাৎ খুব কৃত্রিম লাগছিল।

দরজার ফাঁক দিয়ে দেখলাম—রাশেদ বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে হাসছে, মোবাইলে কথা বলছে। একদম স্বাভাবিক। একদম নির্ভার।

যেন আমার জীবন এইমাত্র দুই ভাগ হয়ে গেছে—এই খবর তার জানারই কথা না।


আমি গভীর শ্বাস নিলাম।


তারপর ফোন করলাম একমাত্র মানুষটাকে, যাকে আমি নিঃশর্তভাবে বিশ্বাস করতাম—আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু মিতু কে।


প্রথম রিংয়েই ফোন ধরল।

আমি খুব সংক্ষেপে, ফিসফিস করে সব বললাম।


প্রথমে সে বলল,

“তুই পাগল? বিয়ের রাতে পালাবি?”


তারপর আমি শ্বশুরের কথাগুলো হুবহু বললাম।


ও চুপ করে গেল।কিছুক্ষণ পর বলল,“যদি ওর নিজের বাবা এমন কথা বলে, সেটা হেলাফেলা করাও ঠিক না।”

“আমি আসছি। এখনই।”

দশ মিনিটের মধ্যে হোটেলের সামনে ওর গাড়ি দাঁড়িয়ে গেল।


আমি একটা ছোট স্যুটকেস নিলাম। হোটেলের কর্মীদের ভদ্রভাবে ধন্যবাদ দিলাম। শান্তভাবে বেরিয়ে এলাম—যেন একজন অতিথি আগেভাগে চলে যাচ্ছে। কোনো কনে নয়, যে নিজের জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছে।

সময় তখন রাত ২টা ১৭।হালকা বৃষ্টি পড়ছিল।


মিতুর বাসায় গিয়ে ফোন বন্ধ করে দিলাম।

মা বারবার ফোন করছিলেন।শাশুড়ি ফোন করলেন।

রাশেদ ফোন করল—একবার, দুইবার, দশবার।

আমি ধরিনি।

কারণ তখন আমি বুঝতে পারছিলাম না—

আমি কাকে বেশি ভয় পাচ্ছি—


যে মানুষটাকে আমি মাত্র বিয়ে করেছি…

নাকি সেই পরিবারটাকে, যাদের হাত থেকে আমি এইমাত্র পালিয়ে এসেছি!


চলবে......


পর্ব ১ শেষ শীঘ্রই পর্ব ২আসবে আপনাদের রেসপন্স অনুযায়ী এতক্ষণে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ। ❤️‍🩹🌻


গল্প: সিদ্ধান্ত 

লেখিকা : 1 Minute With Mitu   


সংগৃহিত 


প্রিয় কলেজের বন্ধু চাইলে আপনি শেয়ার এবং ফলো করে সাথে থাকুন! আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আপনার জন্য ভালোবাসা রইলো!


🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

সেক্সের সময় স্তনের ভূমিকা: ইসলাম কী বলে? লেখাটি প্রত্যেকের পড়া উচিত

একজন স্ত্রী তিনটি জায়গায় উ*ল*ঙ্গ হলেও গুনাহ নেই — ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি

সন্তান বড় হলে স্বামী-স্ত্রী কিভাবে যৌ*ন চাহিদা পূরণ করবে! এক মিনিট সময় নিয়ে লেখাটি বিস্তারিত পড়ুন।