জানলে অবাক হবেন নিজের স্ত্রীর চেয়ে অন্য নারীকে সুন্দর লাগে কেন?
জানলে অবাক হবেন নিজের স্ত্রীর চেয়ে অন্য নারীকে সুন্দর লাগে কেন?
নিজের স্ত্রীর চেয়ে অন্য নারীকে বেশি সুন্দর মনে করে, কিন্তু সমস্যাটা আসলে স্ত্রীর সৌন্দর্যে নয়, বরং মানুষের দৃষ্টি ও অন্তরের অবস্থায়। যখন মানুষ দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করে না এবং বারবার নতুনের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তখন তার কাছে নিজের ঘরের নেয়ামতের মূল্য কমে যায়।
মানুষের অন্তর খুবই অদ্ভুত। সে যখন আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের কদর করতে ভুলে যায়, তখন তার চোখে অন্যের জিনিসই বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে থাকে। আর এ কারণেই অনেক সময় মানুষ নিজের স্ত্রীর চেয়ে অন্য নারীদের বেশি সুন্দর মনে করে। অথচ সমস্যাটা স্ত্রীর সৌন্দর্যে নয়, সমস্যাটা মানুষের দৃষ্টি, অন্তর এবং নফসের মধ্যে।
এক ব্যক্তি এক বিজ্ঞ আলেমের কাছে এসে বলল—
“হুজুর! যখন আমি আমার স্ত্রীকে প্রথম দেখি, তখন মনে হয়েছিল পৃথিবীতে তার চেয়ে সুন্দরী আর কেউ নেই। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর মনে হলো, আরও অনেক নারী তার মতো সুন্দরী। তারপর কয়েক বছর যেতে না যেতেই মনে হতে লাগল, প্রায় সব নারীই আমার স্ত্রীর চেয়ে বেশি সুন্দর।”
আলেম তাকে বললেন—
“আমি কি তোমাকে এর চেয়েও ভয়ংকর একটি বিষয় বলবো? তুমি যদি পৃথিবীর সব নারীকে বিয়েও করে ফেলো, তবুও তোমার চোখ তৃপ্ত হবে না। একসময় পথের নেড়ি কুকুরকেও তোমার কাছে আকর্ষণীয় মনে হবে।”
লোকটি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কেন হুজুর?”
তখন আলেম গভীরভাবে বললেন—
“কারণ সমস্যাটা তোমার স্ত্রীর মধ্যে নয়, সমস্যাটা তোমার দৃষ্টিতে। যে চোখ হারামের দিকে অভ্যস্ত হয়ে যায়, সে চোখ আর হালালের সৌন্দর্য অনুভব করতে পারে না।”
ইসলাম মানুষকে শুধু বাহ্যিক পবিত্রতার শিক্ষা দেয় না; বরং অন্তরের পবিত্রতার দিকেও আহ্বান করে। মহান আল্লাহ কুরআনে বলেন—
> “মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।”
— আল-কুরআন
কারণ দৃষ্টিই হলো অন্তরের দরজা। মানুষ যখন বারবার হারামের দিকে তাকায়, তখন তার অন্তরে অস্থিরতা জন্ম নেয়। সে নিজের ঘরের নেয়ামতের মূল্য বুঝতে পারে না। শয়তান তাকে সবসময় এই ধোঁকা দেয় যে—“আরও সুন্দর কেউ আছে, আরও ভালো কেউ আছে।” ফলে তার মনে কখনো তৃপ্তি আসে না।
অথচ প্রকৃত ভালোবাসা শুধু চেহারার উপর দাঁড়িয়ে থাকে না। ভালোবাসা তৈরি হয় মায়া, বিশ্বস্ততা, ত্যাগ, একসাথে কাটানো সুখ-দুঃখ এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে। একজন স্ত্রী শুধুই সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; সে একজন সঙ্গী, একজন আমানত এবং আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।”
— জামে আত-তিরমিজি
যে ব্যক্তি নিজের দৃষ্টি সংযত রাখে, স্ত্রীর ছোট ছোট যত্নকে মূল্য দেয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সংসার করে, তার কাছে নিজের স্ত্রীই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারী হয়ে ওঠে।
মনে রাখতে হবে, নফসের চাহিদার কোনো শেষ নেই। আজ একজনকে ভালো লাগবে, কাল আরেকজনকে। কিন্তু যে অন্তর আল্লাহর স্মরণে জীবিত থাকে, সে অন্তর হালালের মাঝেই প্রশান্তি খুঁজে পায়।
তাই আমাদের উচিত—
নিজের দৃষ্টি হেফাজত করা
হারাম থেকে বেঁচে থাকা
নিজের স্ত্রী বা স্বামীর গুণগুলোর কদর করা
আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা
বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে চরিত্র ও তাকওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া
কারণ ভালোবাসা নষ্ট হয় না সৌন্দর্য কমে যাওয়ায়; ভালোবাসা নষ্ট হয় যখন অন্তর আল্লাহ থেকে দূরে চলে যায়।
আল্লাহ আমাদের দৃষ্টি, অন্তর ও চরিত্রকে পবিত্র রাখুন। আমীন।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment